Sunday, 11 July 2021

নারী শিক্ষা,Mahmuda khanum mile.

 আমি তিন সন্তানের মা।


আমার এক মেয়ে, দুই ছেলে।   প্রথম মা হয়েছি ১৬ বছর বয়সে। বাবার সমস্যার জন্য তারাতারী বিয়ে দেয়া।  যখন নিজেকে সামলাতে পারার মত বয়স নয়, তখনই আমায়  সংসার, স্বামী , সন্তান সামলাতে হয়েছে।  আমায় কেউ  তেমন একটা  সাহায্য করেনাই।    সেই বয়স থেকেই আমি সন্তানের পড়াশুনা করার চিন্তা থেকে  স্বামীকে চাপ সৃষ্টি করে টাকা জমিয়ে রাখা শুরু করেছি।  খুব ভোরে উঠে স্বামীর জন্য খাবার, টেবিলে গুছিয়ে প্রথম সন্তানকে জামাকাপড় পড়িয়ে, স্কুল ব্যাগ গুছিয়ে, আরেকটা বাচ্চাকে  কাপড় পড়িয়ে, ওর কাথা, খাবার  ব্যাগে নিয়ে,আমি নিজেকে  কখনো গুছাতে পেরেছি কখনো পারিনাই পৌনে সাতটার স্কুল ধরেছি।


অনেকের ধারনা, আমি আদর্শ মা নই।  ওদের ছাড়া কখনোই কোথাও কিছুই খাইনা, ঘুরতেও  যাইনা, তারপরও আমি আদর্শ মা নই। বাবার পরিবারে মেয়ে বলে আমি স্বাধিনতা পাইনি, ভেবেছি বিয়ের পরে পাবো। স্বামীর অসহযোগীতায়, বাধায় আর কটু কথায় মার খেয়ে যখন অন্য মেয়েরা  ডিপ্রেশনে ভূগে নির্ঘুম রাত কেদেঁ ভাসায়!  সেখানে আমি চোখের পানি মুছে এইচ এসসি,  বি এস এস,  এম এ রাত জেগে বই ও এসাইন্টমেন্ট লিখেছি।  ভালোভাবে কিছুই করতে পারিনাই কারন আমি স্বাবলম্বী  ছিলাম না।  অর্থ আর মানসিক জোর দুটোই জরুরী জীবনে উন্নতির জন্য।  আমি এমন একটা মানুষ থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও আর বেশী এগিয়ে যাই , এটাই আমি। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে এমফিল, পিএইচডি করতে গিয়েছি  ডিগ্রীর পয়েন্ট কম বলে করতে পারিনাই। জাহাঙ্গীরনগর  ও জগন্নাথ  ভার্সিটিতে  চেষ্টা করবো।  তাও না হলে ইন্ডিয়া যেয়ে করবো ইনশাআল্লাহ ।  এখন এল, এল বি করছি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। 


মাতৃত্ব  জীবনের গুরুত্বপূর্ণ  অংশ, কিন্তু সবকিছু নয়।  মাতৃত্বে জীবনের সব পূর্ণতা খোঁজে  যে নারী বার্ধক্য  জীবনে সে একা।  সন্তানের বিয়ে,   উচ্চ শিক্ষা বা দূরত্বের  কারনে সেই মা ভোগে হতাশায় বা আর্থিক ও মানসিক  অনিশ্চয়তায়।  কখনো  ও  ছেলেমেয়ের   সংসারে নাক গলিয়ে হয় খারাপ শাশুড়ি ।  অথবা  ছেলে বৌ বা মেয়ে জামাইয়ের কাছে হয় অপমানিত।  আমি কারো কাছে অপমানিত হতে চাইনা বলে যেমনই হোক একটা চাকরী নিয়ে নিয়েছি। তাই নিজস্বতায় আমি আর আপোষ করতে চাইনি। তারমানে এই নয় যে আমি আমার সন্তানদের ভালবাসি না। হয়তো তথাকথিত আদর্শ মা নই


নিজেকে সন্তানের উপর নির্ভরশীল দেখতে চাইনা।  তাদের বিবাহিত জীবন বা দূরে যাওয়া নিয়া হতাশায় ভূগতে চাইনা।  বার্ধক্য বা বাকি জীবন জীবন নিজ ক্যারিয়ার, ব্যবসা, সমাজসেবা করে কাটাতে চাই । নিজ জগতে স্বাধীনভাবে বিচরন করতে চাই।  ঘরে ঘরে আমার মত নিষ্ঠুর মা তৈরী হয় যেনো, সেই উৎসাহ দিতে চাই।  পুরুষশাসিত সমাজে মেয়েদের মাথা উঁচু  করে বাচঁতে  শেখাতে চাই। । এই সমাজের অনেকের ধারনা আদর্শ মা হতে হলে  শখ, আহ্লাদ রাখা যাবেনা,   আমি তাদের দলে নেই। আমি নিজের  যত্ন নেই, তারুন্য ধরে রাখার চেষ্টা করি।  তাই আমি আদর্শ মা নই।  নিজ জীবনের ঝুঁকি  নিয়ে তিন তিনটা বাচ্চার জন্ম দিয়েও আমি আদর্শ মা নই।  আদর্শ মায়ের সংজ্ঞা বদলালে হয়তো আমি আদর্শ মা হতে পারবো।  সর্বোপরি সততা ও বিনয় দিয়ে সব জয় করতে চাই , নিজ সন্তান ও সমাজকে ও সেই শিক্ষাই দিতে চাই।  যা অর্জন করেছি অনেক বাধা এসেছে.... শুধু সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রেখেছি।   জীবনটা অল্পদিনের....  মাথা উচু করে বাচঁতে  চাই। 


মাহমুদা খানম মিলি।

মহিলা বিষয়ক সম্পাদক

পৌর আওয়ামিলীগ  । 

চরফ্যাশন  পৌরসভা।

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=871734613583701&id=100022415100979

Saturday, 24 October 2020

বাল্যবিয়ে।

বাল্য বিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি। বাল্য বিয়ের ফলে কিশোরীদের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়, যেমন:


(১) মানষিক পরিপক্ষতা ও বুদ্ধির বিকাশ হয়না।

(২)অল্প বয়সে মা হলে সংসারের দায়-দায়িত্ব নিতে 

     হয়,এর ফলে তারা লেখাপড়া করতে পারেনা, 

      তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থাকেনা।

(৩)অল্প বয়সে মেয়েরা স্বামী/শ্বশুর বাড়ির র্নিযাতন 

    সইতে না পেরে বাবার বাড়ি চলে আসে, তখন 

    সমাজ মেয়েটিকে বাকাঁ চোখে দেখে।

(৪)অনেক মেয়েরা আত্নহত্যা করে


।                         

(৫)অল্প বয়সে মা হলে মেয়েদের নানা জটিল সমস্যা

   দেখা দেয়,যাতেঅনেক মেয়ে মারা যায়।

(৬)অপুষ্ট ও রুগ্ন শিশুর জন্ম দেয়।

(৭)প্রসব জনিত জটিলতার কারনে মায়ের প্রজনন

    তন্ত্রের সংক্রমন রোগের ফলে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার

    সৃষ্টি হয়।


  পরিশেষে বলতে চাই, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক 

   সমস্যা, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে, সকলের

   মিলিত চেষ্টায় আমরা ঐ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে 

   পারি।। 

  

বাল্যবিয়ে অনেকগুলো কারনেই হতে পারে। বাল্যবিয়ে বন্ধ করার জন্য বাবা- মায়ের  ভূমিকা বেশী থাকাটা জরুরী। কোনো  ভাবেই যদি  আপনার কন্যার নিরাপত্তা দিতে না পারেন তবে অবশ্যই তার বয়সের কাছাকাছি  বয়সের ছেলের কাছে তাকে বিয়ে দিন ।


বিয়ের পরে আপনার মেয়ে এবং মেয়েজামাইয়ের পড়াশুনার দায়িত্বটা যতটা সম্ভব আপনারা নিন।  মেয়ের বিয়ে নিয়ে   আপনার পুরো সংসারের পলিসি করবেন না।  মনে রাখবেন  আপনার পুরো সংসারের দায়িত্ব নেয়ার জন্য অথবা আপনার সমাজে বড় অবস্থানটা ধরে রাখার জন্য বয়সের পার্থক্যে বিয়ে দিয়ে কাল কেয়ামতের দিন আপনি ভালো থাকবেন না।      

 সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করে বিয়ে দিন।   ভেবে দেখুন   জামাইয়ের অনেকগুলো সার্টিফিকেট  ও পদমর্যাদায় আপনার মেয়ে কতটা সন্মান পাচ্ছে?? জামাইয়ের  গাড়ি বাড়ি  ব্যাংক ব্যালেন্স  আপনার মেয়ের কতটা কাজে আসছে?? 


শেখ সাদির কথা মনে আছে আপনার??  পোশাকের পকেটে  দামি খাবার রেখে বলেছিলো, পোশাকের জন্য পাওনা খাবার পোশাককে খাওয়াচ্ছি!! !!  তবে অবশ্যই  আপনার সন্মানের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। মেয়েটা যদি কোনোদিনও  বুঝতে পারে বাবা মেয়েকে সুখি হওয়ার জন্য বিয়ে দেয়নি!!  তার আভিজাত্য  রক্ষার জন্য বিয়ে দিয়েছে!! !! সেদিন আপনি মেয়েকে + সমাজকে আগডুম বাগডুম বোঝালেও নিজের মনকে এবং বিধাতাকে  কি জবাব দেবেন???? 


পুরোনো দিনের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। বাস্তবতা নিয়ে ভাবুন। আশাকরি আমায় ভূল বুঝবেন না।

👉মাহমুদা খানম মিলি👈

উপজেলা মহিলা আওয়ামিলীগ এর প্রচার সম্পাদক।

পৌরআওয়ামিলীগ এর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। 

চরফ্যাশন  উপজেলা। 

মেয়েদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বন্ধ করুন।


 Mahmuda Khanum Mile 

নারী শিক্ষা,Mahmuda khanum mile.

 আমি তিন সন্তানের মা। আমার এক মেয়ে, দুই ছেলে।   প্রথম মা হয়েছি ১৬ বছর বয়সে। বাবার সমস্যার জন্য তারাতারী বিয়ে দেয়া।  যখন নিজেকে সামলাতে পারার...